পটুয়াখালী সদর উপজেলার রাজা মিয়া প্লাজা মার্কেটের ‘মোবাইল হসপিটাল’–এর মালিক জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে পটুয়াখালী শহরের চরপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ।
স্থানীয় ও ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টার দিকে পটুয়াখালী পৌরসভার নতুন বাজার এলাকার রস্তুম পণ্ডিতের গলিতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মাহফুজা বেগমের বসতবাড়িতে জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে ৭ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
এ সময় বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মাহফুজা বেগমের পা ভেঙে দেয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। হামলার সময় ঘর থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় মাহফুজা বেগমকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাহিদ হাসানের সঙ্গে ভুক্তভোগীর ছেলে রায়হান ইসলামের মোবাইল ফোনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। সেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী রিয়াজ হাওলাদার বলেন, “ঘটনার দিন আমি ব্যবসায়িক কাজে বাইরে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে দেখি জাহিদ, জিহাদ, আবরার ও ইমনসহ সন্ত্রাসীরা আমার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে রক্তাক্ত করে ফেলে রেখে গেছে। আমার স্ত্রীর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমি একজন সাধারণ সবজি বিক্রেতা; এই ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
এ ঘটনায় রিয়াজ হাওলাদার বাদী হয়ে পটুয়াখালীর বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: জি আর ৬৭/২০২৬)।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী পরিবার থানায় আসলে তাঁদের সার্বিক আইনি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁরা আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশনার পর প্রধান আসামি জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







