পটুয়াখালী সদর থানার চাঞ্চল্যকর রিপন হত্যা মামলার প্রধান দুই অভিযুক্তকে মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার (০৪ জুলাই ২০২৬) রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানাধীন ৪১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বরগুনা জেলার আমতলী থানার কালিবাড়ী এলাকার মোঃ বাদশা কাজীর ছেলে মোঃ রাসেল কাজী (৩২) এবং একই এলাকার মোঃ ফিরোজ কাজীর ছেলে মোঃ সোহাগ কাজী (৪২)।
র্যাব-৮ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান (পিপিএম-সেবা) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত রিপন কাজী পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তার বাবা একাধিক বিয়ে করে নিজের নামের জমিজমা অভিযুক্তদের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করছিলেন। রিপন এতে বাধা দিলে আত্মীয়তার সম্পর্কে থাকা অভিযুক্তরা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয় এবং শত্রুতা পোষণ করতে থাকে।
এরই জেরে চলতি বছরের ৩০ জুন আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎপেতে থেকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে রিপনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। রিপনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গত ০২ জুলাই ২০২৬ তারিখে পটুয়াখালী সদর থানায় নিহত রিপনের মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। ঘটনাটি নিয়ে র্যাব-৮ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৮ (পটুয়াখালী ক্যাম্প) এবং র্যাব-৭ (সদর কোম্পানী, চট্টগ্রাম) এর একটি চৌকস আভিযানিক দল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।







