সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বর্ষার শুরু থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত চায়না দুয়ারী জালের অবাধ ব্যবহারে নির্বিচারে নিধন হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও মাছের পোনা। এর ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকার জলাশয়গুলোতে এই ক্ষতিকর জালের ব্যবহার চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা সদর, রণগোপালদী, আলীপুরা, বেতাগী সানকিপুর, বহরমপুর ও চরবোরহান।
প্রতিদিনই এসব এলাকার খাল, বিল, পুকুর ও জলাশয়ে চায়না দুয়ারী জাল পেতে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ শিকার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা নিধনের কারণে দেশি মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।
মৎস্যসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত দশমিনায় এখন আর আগের মতো দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে প্রায় অর্ধশতাধিক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শিং, মাগুর, কৈ, বোয়াল টেংরা, শোল, টাকি, গজাল পুঁটি, চাপিলা, খলিশা, পাবদা, আইড়, চিংড়ি, বাইন ইত্যাদি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহারে কৃষিজমিতে অকিরিক্ত সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ও মাছের পোনা নিধন এবং মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় এ পরিস্থিতি সুষ্টি হয়েছে।
প্রবীণ বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিনযুগের আগেও উপজেলার বিভিন্ন ভাল-বিল ও জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই চিএ সম্পূর্ন বদলে গেছে। হাট বাজারে দেশীয় প্রজাতির মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদা পূরন হচ্ছেনা।
এ পরিস্থিতি উত্তরণে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান মৃধা জানান, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে জেলেসহ এলাকার সকলকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।







