কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে আকর্ষণীয় সামুদ্রিক প্রজাতির সার্জেন্ট মেজর (Sergeant Major) মাছ। রঙিন বর্ণ ও ভিন্নধর্মী গঠনের কারণে মাছটি দেখতে স্থানীয় আলীপুর মৎস্য বন্দরে উৎসুক জনতা ভিড় জমান। পরে মাছটিকে বরফে সংরক্ষণ করা হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) মাছটি বন্দরে নিয়ে আসা হয়। এর আগে তিন-চার দিন আগে গভীর সমুদ্রে ‘মায়ের দোয়া’ নামক একটি মাছ ধরার ট্রলারের মাঝি ইদ্রিসের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে তা আলীপুর বন্দরের মেসার্স সিফাত ফিসে নিয়ে আসা হয়।
ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস বলেন, “গভীর সমুদ্রে মাছটি জালে উঠে আসে। দেখতে খুব সুন্দর হওয়ায় আমরা এটি ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসি। আমার জালে এ ধরনের মাছ এই প্রথম ধরা পড়েছে।”
মেসার্স সিফাত ফিসের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম শামিম জানান, মাছটি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর হওয়ায় তাঁরা এটি বরফে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। এর আগে তাঁরা এমন মাছ কখনো দেখেননি।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, সার্জেন্ট মেজর মাছ (Abudefduf spp) হলো Pomacentridae পরিবারের একটি সামুদ্রিক প্রজাতি। বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে এটি পাথারী মাছ, কালো ডোরা সৈনিক মাছ বা রেহা মাছ নামে পরিচিত।
তিনি আরও জানান, মাছটির দেহ চ্যাপ্টা ও ডিম্বাকার। এর পিঠে হালকা হলুদাভ আভা এবং শরীরের দুই পাশে ৪ থেকে ৫টি গাঢ় উল্লম্ব ডোরা থাকে, যা দেখে খুব সহজেই এই মাছ শনাক্ত করা যায়। এই মাছ মূলত বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় পাথুরে এলাকা ও প্রবাল প্রাচীর—বিশেষ করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আশপাশের অগভীর সামুদ্রিক পরিবেশে বসবাস করে। এটি সর্বভুক (Omnivorous) স্বভাবের এবং শৈবাল, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে সামুদ্রিক খাদ্যজালের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাণিজ্যিক গুরুত্ব তুলনামূলক কম হলেও উপকূলীয় এলাকায় এটি স্থানীয়ভাবে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া উজ্জ্বল রঙ ও আকর্ষণীয় ডোরাকাটা নকশার কারণে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক অ্যাকোয়ারিয়ামে শোভা বর্ধনের জন্য মাছটির ব্যাপক চাহিদা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, এ ধরনের সামুদ্রিক মাছ উপকূলীয় জলসীমায় থাকলেও সচরাচর খুব একটা ধরা পড়ে না। জেলেদের জালে মাঝে মাঝে এমন ব্যতিক্রমধর্মী প্রজাতির মাছ উঠে আসে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং এসব মাছের তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।







