এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া : পটুয়াখালীর মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার প্রস্তুতির খবরে কুয়াকাটা উপকূলের সাধারন মানুষের মাঝে বিরাজ করছে এখন উৎসবের আমেজ।
জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণার কথা বলেছিলেন। নির্বাচনের পর গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী বরাবর মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার আবেদন করেন স্থানীয় সাংসদ। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর এসাইনমেন্ট অফিসার-১ মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশনা দেয়া হয়। ফলে কলাপাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে প্রশাসনিক মহিপুর উপজেলা।
প্রসঙ্গত, মহিপুর দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। ২০১৬ সালে থানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য বন্দর, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক, বীমা, কারখানা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে। এছাড়া কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের মহিপুর থানা এলাকায়।কুয়াকাটায় খাসজমি নেই বল্লেই চলে।যাও কিছু আছে তাও সরকারি রেট অনেক বেশী।মহিপুর প্রচুর খাসজমি রয়েছে। সেই সবজমিতেি উপজেলার সকল সরকারি দপ্তর স্হাপন করা যাবে।একয়র প্রয়োজন হলে তাও সরকারি রেট অনেক কম। পর্যটনকেন্দ্র ও মৎস্য বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় মহিপুরকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।
মহিপুর থানা পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার অন্তরগত একটি প্রশাসনিক থানা। ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মূলত কলাপাড়া উপজেলার দক্ষিণাংশে অবস্থিত কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা এবং তৎসংলগ্ন ইউনিয়নগুলোর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত।
ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ম্যান মো. হেদায়েত উল্লাহ বলেন, মহিপুর উপজেলা হলে আমাদের ইউনিয়নের অনেক উন্নয়ন হবে। এই স্থানটি সকল ইউনিয়ন ও কুয়াকাটা পৌর সভার মাঝখানে। আমাদের ইউনিয়নের কাছে। সকল ইউনিয়নের দাপ্তরিক কাজ সারতে অনেক সুবিধা হবে।
ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ আ: রহিম বলেন, কলাপাড়া উপজেলা আমাদের ইউনিয়ন থেকে প্রায় ২০ কি:মি: দুরত্ব আর মহিপুর ৫ কিমি। গ্রামের মানুষ হেটে গিয়েও সরকারি দাপ্তরিক কাজ সারতে পারবে। মহিপুর উপজেলা হলে হলে আমাদের ইউনিয়নের অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হবে।
লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান(ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহিপুর-আলীপুর (লতাচাপলী ইউপি) নদীর এপার ওপার, এই দুটি মৎস্য বন্দর। আমারদে জনগনের বেশী সুবিধা হবে মহিপুরকে উপজেলা করা হলে।আমরা ব্রীজ পার হলেই উপজেলা পরিষদ। আর কুয়াকাটা একটি সাইডে,দেশের দক্ষিণের শেষ সিমানায় এবং আলিপুর থেকে অনেক দুরত্ব।
সদর মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. পজলু গাজী বলেন, মহিপুর বন্দর ভৌগোলিক সীমানায় এই থানার মধ্যে খানে। এটি অনেক পুরনো মৎস্য বন্দর। এই স্হানটি কুয়াকাটা পৌরসভা, ধুলাসার ইউনিয়ন, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন, লতাচাপলী ইউনিয়নের মধ্যেখানে মহিপুর থানা। মহিপুর থানাকে উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হলে অত্র এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হবে।
মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শাহজাহান পারভেজ বলেন, মহিপুর থানাটি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা আমাদের জাতীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি সাহেবের নির্বানি ওয়াদা।জনগন আমাদের সেইভাবেই ভোট দিয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা শহর মহিপুর থেকে ১৮ কিমি দূরত্ব। তাই মহিপুর থানার সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভার জনস্বার্থে মহিপুরকে উপজেলায় বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরী।







