দুমকি প্রতিনিধি : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ যোদ্ধা ও আহতদের স্মরণে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) এক দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে এই আয়োজন করা হয়। জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হামিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। এতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) অনুষদের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বাবু মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেন। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গভীর আবেগে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেন। এরপর ভাইস-চ্যান্সেলরের লিখিত বাণী পাঠ করেন ভিসি কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. রাহাত মাহমুদ।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার পিতা রতন চন্দ্র তরুয়া, কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর এম. জহুরুল হক, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি, এবং শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম, মো. রাকিব, তন্ময়, ওমিও জামান, ইমন হোসেন, আশিকুর রহমান, শামীম মাহমুদ আবির, খালিদ মাহমুদ, মো. সাব্বির, শাহাদাৎ হোসেন ও কর্মচারী প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, ‘‘১৬ জুলাই ২০২৪ আমাদের জাতীয় জীবনে, বিশেষ করে আমাদের ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। এদিন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারাদেশে ৬ জন যোদ্ধা পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। তাদের সেই বীরোচিত আত্মত্যাগ পুরো দেশের ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব জাগরণে উদ্বুদ্ধ করে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘জাতির ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত কেবল একটি ঘটনার নাম নয়; সেগুলো হয়ে ওঠে একটি প্রজন্মের সাহস, আত্মত্যাগ ও পরিবর্তনের প্রতীক।’’
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জুলাই যোদ্ধা শহীদ হৃদয় তরুয়ার পিতা রতন চন্দ্র তরুয়াকে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ যোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহত যোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।







