গলাচিপা প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর গলাচিপায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মিরন প্যাদা (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার গলাচিপা সদর ইউনিয়নের শ্রীনাথ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মিরন প্যাদা গলাচিপা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সামচু প্যাদার ছেলে।
স্থানীয় ও আহত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে শ্রীনাথ বাজারের দক্ষিণ পাশে সড়কে অনিক মন্ডল ও তার বাবা সুশান্ত মন্ডল জোরপূর্বক সুজিত মন্ডল নামের এক ব্যক্তির জমি চাষ করতে যান। এ সময় মিরন প্যাদা তাদের বাধা দিলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাপ-ছেলে মিলে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। মিরন প্যাদার ডাক-চিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ক্রয়সূত্রে জমির মালিক দাবিদার নিখিল পাল বলেন, ‘‘আমি সুজিত মন্ডলের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছি। ওই জমির বিষয়ে সুশান্ত মন্ডল ও তার ছেলের কাছে জানতে চাইলে তারা মিরন প্যাদার ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে।’’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিপক্ষ অনিক মন্ডল ও সুশান্ত মন্ডল মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘‘কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কেবল ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এতে আমরাও আহত হয়েছি।’’
ঘটনাস্থলের ইউপি সদস্য আলমগীর মিয়া মারধরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন টুটুর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ড. মেজবাহউদ্দিন জানান, আহত মিরন প্যাদা হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ১২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুলা জখম পাওয়া গেছে।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আহত মিরন প্যাদা বাদী হয়ে ওই রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও এসময় জানান তিনি।







