দুমকি প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার নতুন বাজার থেকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রথম গেট পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় খানাখন্দে ভরে গিয়ে চরম বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিচ ও সুরকি উঠে গিয়ে সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যার ফলে চলাচলের একবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমে যেন সাগরের রূপ নেয়। দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ পবিপ্রবির হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। খানাখন্দের কারণে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা। এক অটোচালক জামাল জানান, এই পথ দিয়ে গাড়ি চালালে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, কোনো রোগী বহন করা যায় না এবং যাত্রীরাও উঠতে চান না।
সড়কটির চরম অবনতির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। রাস্তার দুপাশে ৫টি ব্যাংক, একাধিক এটিএম বুথ ও শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বেহাল রাস্তার কারণে ক্রেতারা আসতে না পারায় বেচাকেনা নেমে এসেছে অর্ধেকে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ফয়সাল মৃধা ও নেছার উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘দোকানে বেচাকেনায় ধস নেমেছে। যা বিক্রি হয়, তা দিয়ে ঘরভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দেওয়াটাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’
পবিপ্রবির এক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে এমন পরিবেশ শিক্ষার্থী ও পথচারীদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভোগের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামের পরিপন্থী।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, ‘‘রাস্তাটির দুরবস্থার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য এলজিইডি ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষের সাথে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।’’
দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পথচারী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এখন একটাই দাবি—জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার করে স্বাভাবিক যাতায়াত ও জীবনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হোক।







