পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ১৫ নম্বর দেবীরচর দুমকি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) সিনিয়র কর্মকর্তা (প্রকিউরমেন্ট অফিসার) মো. মাসুদুল আলম।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটির সভায় ১২ সদস্যের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাঁকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এর আগে ২০২২ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি প্রথমবারের মতো তিন বছরের জন্য একই বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্বশীলতা, সততা, শিক্ষা-অনুরাগ এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তাঁর ইতিবাচক ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ আবারও সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর ওপর আস্থা রাখেন।
১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় নয় দশকের ঐতিহ্য বহনকারী এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষক নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান করছেন এবং তিন শতাধিক শিক্ষার্থী জ্ঞানের আলোয় নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর নতুন পরিচালনা কমিটি গঠিত হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ উদ্দীপনা ও আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন পরিচালনা এবং রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন দুমকি উপজেলা ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর মো. জাকির হোসেন খন্দকার এবং আলভী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।
সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মো. মাসুদুল আলম গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিশুর মুখে যেন স্বপ্নের হাসি ফুটে ওঠে, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ যেন জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হয় এবং প্রতিটি অভিভাবক যেন এই বিদ্যালয়কে নিজের প্রতিষ্ঠান বলে মনে করেন—সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি কাজ করতে চাই। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, আধুনিক ও নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তার এবং শিক্ষক-অভিভাবক-পরিচালনা কমিটির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলাই হবে আমার অগ্রাধিকার।’’
তিনি আরও বলেন, একটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কেবল একজন সভাপতির পক্ষে সম্ভব নয়; এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি এবং তিনি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় বিদ্যালয়কে একটি আদর্শ, আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য দুমকি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুনিল চন্দ্র দেবনাথ, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বায়জিদ ইসলাম, দুমকি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম মৃধা, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সদস্য ও বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত সহসভাপতি মো. মেহেদী হাসান মিন্টু, বিদ্যালয়ের অন্যতম জমিদাতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম এবং তাঁর সহধর্মিণী লাইজু আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
মো. মাসুদুল আলম ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ের অন্যতম জমিদাতা, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মরহুম মো. সেরজান আলী হাওলাদার ও মরহুমা আম্বিয়া বেগমের ৩ কন্যা ও দুই পুত্রর মধ্যে সবার ছোট। পারিবারিকভাবেই শিক্ষা ও সমাজসেবার ঐতিহ্য ধারণ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
তাঁর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার খবরে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, দুমকি উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নেই নয়, শিক্ষার গুণগত মান, নৈতিক শিক্ষা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
ব্যক্তিগত জীবনে মো. মাসুদুল আলম দুই সন্তানের জনক। তাঁর কন্যা হুমায়রা তাকিয়া মাইশা পবিপ্রবির সৃজনী বিদ্যানিকেতনে অষ্টম শ্রেণিতে এবং পুত্র মো. তানভীর মাহমুদ মুসা চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। নিজের সন্তানদের মতোই বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিশুকে সুশিক্ষিত, আদর্শবান ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।







