দুমকি প্রতিনিধি : পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্যতিক্রমী এক তালবীজ বপন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া বায়তুল আমান দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লোহালিয়া নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নবনির্মিত বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে দুই কিলোমিটার জুড়ে সারিবদ্ধভাবে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের এ উদ্যোগ দেখে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকার সত্তোরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মোঃ করিম কাজী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘‘আগেকার দিনে বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও রাস্তার দু’পাশে সারি সারি তাল গাছ দেখা যেত। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে তালের শাঁস খাওয়া আর আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ঘরে ঘরে তালের পিঠা তৈরির ধুম পড়ত। কিন্তু কালের আবর্তে তা বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এমন উদ্যোগ আমাদের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।’’
উদ্যোগের বিষয়ে বায়তুল আমান দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই এলাকা থেকে তালবীজ সংগ্রহ করা হয়। সরকার ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব সবুজ পরিবেশ উপহার দিতে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে এসব বীজ বপন করা হয়েছে।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রুহুল আমিন বলেন, ‘‘তালগাছ আমাদের পরিবেশ ও জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। জ্বালানি ও খাবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এর কাঠ দিয়ে বসতঘর এবং ডিঙি নৌকা তৈরি করা যায়। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।’’
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন উদ্যোগটির প্রশংসা করে বলেন, ‘‘তালগাছ প্রাকৃতিক বজ্র নিরোধক ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকরী। তবে শুধু রোপণ করলেই হবে না, রোপণকৃত চারাগুলো টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে।’’







