কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চৌকি আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশু ও তার মাকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার জেরে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মা ও শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং এ সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি জেলা বিএনপির নজরে এসেছে। সার্বিক ঘটনাটি নৈতিক অবক্ষয়, নৈতিক স্খলন এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী গুরুতর কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জেলা বিএনপির এই কড়া বার্তার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অস্বস্তি ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে হাফিজুর রহমান চুন্নু পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন। সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় তাঁকে সাধারণ সম্পাদক পদে আর বহাল রাখার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে সহকর্মীদের ওপর হাত তোলার অভিযোগও নতুন নয়। এর আগে প্রকাশ্য আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে বিচারকের সামনেই প্রতিপক্ষের আইনজীবী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন মাহমুদকে থাপ্পড় মারেন তিনি। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি সভাপতির ব্যক্তিগত চেম্বারে একটি সালিশি বৈঠক চলাকালে সভাপতির সামনেই অ্যাডভোকেট আবুল বাশার নামের আরেক আইনজীবীকে প্রহার করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেন এই বিএনপি নেতা। একের পর এক এসব ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।







