দেশীয় উদ্ভাবন জোরদার করতে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্স গবেষণার প্রসারে সরকার নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-এর প্রকল্প উপস্থাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তার এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ইউএপি, জাপানের ‘চোয়া জিকেন কর্পোরেশন’ এবং ‘এআই সামুরাই জাপান’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “বিশ্বমানের প্রযুক্তির পাশাপাশি নিজস্ব বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী এআই প্ল্যাটফর্ম, ডেটাসেট ও প্রোগ্রামিং তৈরিতে তরুণদের গবেষণার গভীরতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। সরকার নীতিগত সমর্থন দেবে, তবে কোন কোন সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কীভাবে এআই প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ সম্ভব—সেই পথনকশা ও কার্যকর সমাধানগুলো প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেই আসতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নেই। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে এআই বড় রূপান্তর আনছে। বিশেষ করে কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তিগত ঘাটতি পূরণে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
তবে কেবল বিদেশের তৈরি এআই টুল ব্যবহারে দক্ষতা দেখানোই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে উপদেষ্টা স্থানীয় অবকাঠামোগত বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, দেশের উপযোগী এআই টুলস ও সমৃদ্ধ বাংলা ডেটাসেট তৈরির জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জিপিইউ (GPU) চালনার সক্ষমতা অর্জনের মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করা জরুরি। তরুণদের কেবল প্রযুক্তিগত উদ্দীপনায় ভেসে না গিয়ে গবেষণার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জাপানের ক্রমাগত উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রশংসা করা হয় এবং ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-কে তরুণদের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর যুব দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আবদুল্লাহ, ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরী।
সমাপনী পর্বে ইউএপি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণকালে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বাস্তবমুখী এআই প্রকল্পের ব্যবহারিক প্রয়োগ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান শেষে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা, জাপানের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।







