কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে একটি মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ নিধনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ঘের থেকে আরও প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ লুট করার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী চাষিরা।
উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের লেমুপাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধসংলগ্ন চার একর আয়তনের একটি মাছের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী চাষি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, লেমুপাড়া গ্রামের মঞ্জু সিকদার ও সজীব তালুকদার দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই জমিতে যৌথভাবে মাছ চাষ করে আসছেন। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে শনিবার সকালের মধ্যে যেকোনো সময় দুর্বৃত্তরা ঘেরে প্রবেশ করে বিষ বা বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগ করে। এর ফলে ঘেরে থাকা রুই, কাতলা, গ্লাস কার্প, মৃগেল, চিংড়ি, কোরাল ও বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর মাছ মারা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চার একরের বিস্তীর্ণ ঘেরজুড়ে মরা মাছ ভেসে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পানির নিচ থেকে আরও মাছ মরে ভেসে উঠছে। আকস্মিক এই নাশকতায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিরা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘেরচাষি সজীব তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘‘শুক্রবার রাতে ঘের পাহারা দেওয়ার সময় হঠাৎ পানিতে কিছু ছিটানোর শব্দ পেয়ে আমি টর্চলাইট জ্বালি। এ সময় স্থানীয় বকু তালুকদার, মুসফিক তালুকদার, জাহাঙ্গীর হোসেন, ফোরকান মাঝি ও আনোয়ার গাজীকে ঘেরে বিষ ছিটাতে দেখি। স্থানীয় দুজনকে নিয়ে তাঁদের প্রতিহত করার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকায় আমরা পিছু হটতে বাধ্য হই।’’
অপর চাষি মঞ্জু সিকদার জানান, জমিজমা নিয়ে বকু তালুকদারের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরে এর আগেও বকু তালুকদার তাঁদের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করেছিলেন এবং নানা সময়ে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বকু তালুকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







