দশমিনা প্রতিনিধি : কয়েক দিন পরেই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে সামনে রেখে রং-বেরঙের পোশাকে সেজে উঠেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বিপণিবিতানগুলো। কেনাকাটার শেষ মুহূর্তে দোকানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে চলমান মূল্যস্ফীতির চাপে পছন্দের পোশাক কিনতে গিয়ে সাধ্য ও বাজেটের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর বাতাসে শিউলির সুবাস প্রকৃতিতে জানান দিচ্ছে দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। উৎসবের আনন্দকে ঘিরে নিজ নিজ সাধ্যমতো প্রস্তুত হচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। কেউ খুঁজছেন পছন্দের শাড়ি, কেউবা থ্রি-পিস কিংবা পাঞ্জাবি। আনন্দ ভাগ করে নিতে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য কেনা হচ্ছে নতুন পোশাক। পছন্দের রং, নকশা আর কাপড়ের বৈচিত্র্যে জমে উঠেছে পূজার কেনাকাটা।
অভিভাবকদের সাথে বাজারে আসা এক শিশু জানায়, “আমি আমার জন্য পাঞ্জাবি এবং পরিবারের অন্যদের জন্য শাড়ি ও পাঞ্জাবি কিনেছি।” অন্য এক শিশু জানায়, সে তার জন্য শার্ট-প্যান্ট ও খেলনাসহ পরিবারের সকলের জন্য নতুন পোশাক কিনছে।
কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “পরিবারের সবার জন্যই নতুন জামাকাপড় কিনছি। অষ্টমীর দিন আমাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী লাল-সাদা পোশাক পরার নিয়ম রয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম অনেক বেশি।”
এবার তরুণ-তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে আধুনিক নকশার নানারকম পোশাক। পাশাপাশি ঐতিহ্য বজায় রাখতে শাড়ি ও পাঞ্জাবির প্রতিও ক্রেতাদের বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। পোশাকের পাশাপাশি জুতা, গহনা ও প্রসাধনীর দোকানেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এক নারী ক্রেতা বলেন, “কেনাকাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইচ্ছে ছিল একটি গাদোয়াল শাড়ি কেনার, কিন্তু অতিরিক্ত দামের কারণে একাধিক দোকান ঘুরে অবশেষে লাল-সাদা রঙের একটি সাধারণ শাড়ি কিনতে হলো।”
উৎসবের আমেজে প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে কেনাকাটা চললেও সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে বাজেটে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। আরেক নারী ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম অনেক বেশি মনে হচ্ছে। নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে পছন্দের সবকিছু কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অনেক ইচ্ছে বাদ দিয়ে শুধু জরুরি জিনিসগুলো কিনতে হচ্ছে।”
আরেকজন ক্রেতা জানান, পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে গিয়ে বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। “সাধ থাকলেও সাধ্যের সাথে মিলছে না, তাই হিসেব করে প্রয়োজনীয় পোশাকই বেছে নিতে হচ্ছে,” বলেন তিনি।
ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করছেন বাজারের এই মন্দা ভাব। মূল্যস্ফীতির কারণে গত বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা কিছুটা কম বলে দাবি করেছেন উপজেলা সদরের চেয়ারম্যান মার্কেটের ‘মা-বাবার আশীর্বাদ বস্ত্র বিতান’-এর মালিক মলয় চন্দ্র শীল।
তবে পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সরগরম হয়ে উঠছে দশমিনার বস্ত্রবিতানগুলো। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা সারতে সব বয়সের মানুষই ভিড় করছেন বাজারে। সার্বিক বিবেচনায়, শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই—এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিতেও।







