কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ডিজিটাল আসক্তি প্রতিরোধ এবং মাদক থেকে দূরে রাখার লক্ষে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত ধারাবাহিক সচেতনতামূলক সেমিনার সম্পন্ন হয়েছে। পটুয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের উদ্যোগে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ধূমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশন’ (ডিওয়াইএফ)-এর সার্বিক সহায়তায় এ বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফজলুল করিম মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বের সেমিনারের মধ্য দিয়ে এই ১০টি স্কুলের মাসব্যাপী কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, দুই ধাপে সদর উপজেলার মোট ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে পটুয়াখালী পৌরসভার অধীনস্থ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শের-ই-বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই কার্যক্রম চালানো হয়। পরবর্তী ধাপে ইউনিয়ন পর্যায়ের আরও ৫টি প্রতিষ্ঠান—লাউকাঠী শহীদ স্মৃতি বিদ্যানিকেতন, হেতালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডিবুয়াপুর মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভায়লা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ফজলুল করিম মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সেমিনারগুলো আয়োজন করা হয়।
প্রতিটি সেমিনারে কৈশোরকালীন মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন, মানসিক চাপ কাটানোর উপায়, অতিরিক্ত মোবাইল ও ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব এবং মাদকের কুফল নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মুক্ত মতবিনিময় পর্বও পরিচালনা করা হয়।
কর্মসূচির প্রধান উদ্যোক্তা পটুয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. এম এম নাহিদ আল রাকিব জানান, ‘‘আমাদের সমাজে কৈশোরকালীন মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এক ধরনের সামাজিক সংকোচ কাজ করে। পড়াশোনার চাপ, বিষণ্নতা কিংবা ডিজিটাল আসক্তিতে ভুগলেও শিক্ষার্থীরা প্রকাশ করতে পারে না। প্রচলিত সরকারি সেবার গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা পৌঁছে দিতেই আমাদের এই আয়োজন।’’
ধূমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা জানান, শহর থেকে শুরু করে দূরবর্তী প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে তারা মাঠপর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসের সাথে সমন্বয় করে কাজ করেছেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই সেমিনারগুলোর মাধ্যমে অর্জিত সচেতনতা পটুয়াখালীর তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত, মানসিকভাবে সুদৃঢ় ও সুস্থ জীবন গঠনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।







