বাউফল প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আট নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদেরকে বাউফল পৌরসভার মুজিব চত্বরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মিত ফলকের বঙ্গবন্ধুর মুখের অংশ ভেঙে ফেলার ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে বাউফল থানার অদূরে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাউফল পৌরসভা শাখা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. শাহ জাহান হাওলাদারকে (৬৬) কয়েকজন সাদা পোশাকের পুলিশ এসে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেব ছালাম জানিয়েছেন বলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে হাজতখানায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। একই রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাউফল পৌরসভা শাখা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মো. ফজলুল হক (৫০), কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জিএম নিউটন (৫৫), কনকদিয়া ইউনিয়ন যুবদল কর্মী মোঃ কামরুজ্জামান সিপাই ওরফে হাসিব (৩৩) ও মো. আব্দুল মান্নান হাওলাদার (৪৩), সূর্য্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর গ্রামের বাসিন্দা যুবদলকর্মী মো. সাইদুর রহমান খান ওরফে জাফর খান (৩৯), কাছিপাড়া ইউনিয়নের কারখানা গ্রামের বাসিন্দা যুবদলকর্মী মো. মোর্শেদ আলম (৩০), আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী নূর এ আলম বাদশাকে (৪৭) আটক করে। পরে তাঁদের সবাইকে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বাউফল পৌরসভার মুজিব চত্বরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মিত ফলকের বঙ্গবন্ধুর মুখের অংশ ভেঙে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. জিয়াউল হক বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারায় কারো নাম উল্লেখ না করে ওই মামলাটি করেন।
বিএনপি দলীয় সাবেক সংদস সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার বলেন,‘ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু এই অবৈধ বাক-স্বাধীনতা হরনকারী সরকার যেভাবে বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে তা পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীকেও হার মানিয়েছে।’ তিনি মির্জ া ফকরুল ইসলাম আলমগীরসহ সারা দেশব্যাপী গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।
ওসি এটিএম আরিচুল হক বিএনপির আট নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ,‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশের ওপর হামলা চালানো এবং পুলিশ মেরে ফেলা দলের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পদধারী সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।’







