মেহেদী হাসান, দুমকিঃ স্বল্প সময়ে কম পুঁজিতে অধিক লাভবান হওয়ায় পটুয়াখালীর দুমকিতে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন। দিন দিন বাড়ছে ছাগল পালনকারীর সংখ্যা। উপজেলার শ্রীরামপুর, পাঙ্গাসিয়া, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও মুরাদিয়া ইউনিয়নে প্রায় বাড়িতে দু-চারটি ছাগল লালন পালন করতে দেখা যায়।
সরেজমিনে জমিনে দেখা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছাগল পালন করছে। ছাগল বছরে দুইবার এবং প্রতিবারে ১ থেকে ৪টি বাচ্চা প্রসব করায় খুবই লাভজনক ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।তারা জানান ১ থেকে ২ টি বকরি ছাগল ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় ক্রয় করে লালন পালন শুরু করেন। বছর শেষে দুটি ছাগলে কমপক্ষে আটটি ছাগল হয়। সবমিলিয়ে বছর শেষে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হয়। ছাগল লালন পালনে অনেক পরিবারের ভাগ্যেও পরিবর্তন হয়েছে। ছাগল সাধারণত ঘাস, গাছপালার পাতা, গম, ভুট্টা ও ভুসি খেয়ে জীবন ধারণ করে। ছাগল পালনে বেশি জায়গার প্রয়োজনও হয় না।
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সোহেল মাহমুদ(৩৯) বাংলাদেশ সমাচারকে- বলেন, গত এক বছর পূর্বে তিনি হরিয়ানা ক্রোস জাতের ১টি ও ব্রিটল ক্রোস জাতের ২টি বাচ্চা সহ মোট ৪টি ছাগল ৩৮ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। এক বছরের ব্যবধানে বর্তমানে ১০টি ছাগল হয়েছে এবং ১টি গাভীন অবস্থায় আছে। বর্তমানে ১০টি ছাগলের দাম লক্ষাধিক টাকার উপরে হবে বলে জানান।
দক্ষিণ মুরাদিয়ার কাজী সাইদুল ইসলাম বলেন, কৃষি কাজের ফাঁকে ছাগলও পালান করি। বছরে প্রায় ৫০হাজার টাকা এর থেকে বাড়তি আয় হয়। চরগরবদী এলাকার সৈয়দ জাকির হোসেন জানান, তার খামারে প্রায় ৩০টি ছাগল ছিল। কিন্তু গত মাসে ১৩ টি ছাগল হঠাৎ অজানা রোগে মারা গেছে। ছাগল পালন একটি লাভজনক উদ্যোগ। বর্তমানে ছাগলের মাংস ও দুধের আকাশচুম্বি চাহিদার কারণে গ্রামে গঞ্জে ছাগল পালনের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ছাগলের মাংস ১হাজার থেকে ১২শ টাকায় বিক্রি হয়। তিনি আরো বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ডাক্তার না থাকায় পশু সম্পদের রোগ বালাইয়ে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।







