সাথী প্রতিবেদকঃ পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নে কাওসার হোসেন নামে এক খামারির তিনটি গরুর গায়ে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। এতে করে ২২ দিন অসুস্থ থাকার পর রবিবার সকালে একটি গরুর মারা গেছে। অসুস্থ বাকি ২ টি গরুর অবস্থাও আশঙ্কাজন। গরুর মৃত্যুতে পথে বসেছে ওই খামারি। তবে এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় অভিযোগ করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
গরুর মালিক মোঃ কাওসার বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আমার পালিত তিনটি গরু খামারে বেঁধে আমি আমার শশুর বাড়িতে বেড়াতে যাই । পরের দিন সকাল বেলা গরুর খোয়ারে এসে দেখি গরুর গায়ে কেবা কাহারা এসিড নিক্ষেপ করেছে। এতে দুটি গরুই খুবই মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আমার কান্না চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দেখেন তিনটি গরুই অসুস্থ অবস্থায় রক্ত ঝরছে। এরপরে আমি যখন ঘরে যাই তখন দেখি আমার ঘরে থাকা মূল্যবান এলইডি টিভি সেটিও ভেঙ্গে ফেলে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পরবর্তী সময়ে আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় ২৫ সেপ্টেম্বর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। আমাদের প্রতিবেশী হানিফার সাথে আমাদের পারিবারিকভাব দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই কাজটি করেছে বলে আমি বুঝতে পারছি। আমি একজন সামান্য মোটরসাইকেল চালক আমার এই তিনটি গরু এসিড মারার ফলে আমার প্রায় দুই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি পথে বসে গেছি।
কাওসার হোসেন এর মা খাদিজা বেগম বলেন, আমি ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় ছিলাম, তখন শুনি আমাদের খামারের গরুর গায়ে হানিফা এসিড নিক্ষেপ করছে। আমার এত দামের গরুর যে ক্ষতি করল বোবা প্রাণী তা আমি কোনদিন ভুলতে পারব না। আমি এর বিচার চাই।
প্রতিবেশী শানু গাজী বলেন, আমরা কাওসারের ডাক চিৎকারে শুনে ছুটে এসে দেখি তার গরুর খামারের তিনটি গরুর গায়ে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। গরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে, বোবা প্রাণীর সঙ্গে এরকম অত্যাচার যা খুবই দুঃখজনক। আজকে তার একটি গরু মারা গেছে আরো একটি গরু আশংকা জনক অবস্থায় আছে, যারা এ কাজটি করেছে আমরা তার বিচার চাই।
৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লালু শিকদার বলেন, কাওছারের পরিবারে খুবই গরিব, এভাবে কোন প্রাণীকে এসিড মেরে হত্যা করা কোনভাবেই কাজটি ঠিক হয়নি। আমি বিচার চাই। আমি সন্দেহ করি হানিফাকে তাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক একটি বিরোধ রয়েছে।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জসিম বলেন, এসিড নিক্ষেপের বিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে যাকে সন্দেহ করা হয়েছে তাকে আটকের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই সে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আশা রাখি খুব দ্রুত ভাবে গ্রেফতার করতে পারব।







