কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘরে ঢুকে চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে একদল দুর্বৃত্ত।
রবিবার গভীর রাতে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের ধান ব্যবসায়ী আলম খানের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়া পরিবারের পাঁচ সদস্যকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি ভুক্তভোগীরা হলেন—ধান ব্যবসায়ী মো. আলম খান (৫১), তার মা আয়শা বিবি (৭৫), স্ত্রী মাছুমা বেগম (৪৫), ছেলে মো. রাসেল (৩০) এবং পুত্রবধূ হাফসা বেগম (২৫)। স্বজনেরা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনজনের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলেও এখন পর্যন্ত বৃদ্ধা আয়শা বিবি ও মাছুমা বেগমের জ্ঞান ফেরেনি।
ভুক্তভোগী আলম খান জানান, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ঘরের দোতলার দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে এবং চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে সবাইকে অচেতন করে ফেলে। পরবর্তীতে আলমারি ভেঙে নগদ ৫ লাখ টাকা, ৪ ভরি স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকা) এবং ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেটসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরদিন সকালে অনেক বেলা হলেও কারও কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরের দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে ভেতরে থাকা আলম খান শব্দ পেয়ে জেগে ওঠেন। অত্যন্ত দুর্বল শরীর নিয়ে দরজা খুলে দেওয়ার পর পরিবারের সবাইকে অচেতন এবং ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। এই ঘটনায় তিনি মামলা দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আলম খানের ছোট ভাই বজলু খান বলেন, “সকালে চুরির সংবাদ পেয়ে ভাইয়ের বাসায় গিয়ে দেখি সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন এবং আলমারির মালামাল ছড়ানো-ছিটানো। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







