কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার বাবার প্রায় ৬ একর জমি চাষাবাদে বাধার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে জমি দখলের চেষ্টার ফলে বিগত দুই বছর ধরে অনাবাদি পড়ে রয়েছে ওই কৃষিজমি।
উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বড় বালিয়াতলী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী আবদুল খালেক এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় নজরুল ইসলাম নকুকে প্রধান করে চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আবদুল খালেকের দাবি, তিনি, তার ভাই, স্ত্রী ও ছেলেদের নামে বড় বালিয়াতলী মৌজার ৫.৭৫ একর জমি ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন রয়েছে। ১৯৫৪ সাল থেকে তার পরিবার জমিগুলো ভোগদখল করে আসছে এবং বিএস রেকর্ডেও তাদের নাম রয়েছে। তবে তার বড় ছেলে শামীম-আল-সাইফুল সোহাগ যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় গত ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলাম নকু, হানিফ মিয়া, বশির মুন্সী ও সোহেল মুন্সি তাকে চাষাবাদে বাধা দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার মৃধা ও মো. নেছার জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে আবদুল খালেককে তারা এই জমি চাষ করতে দেখেছেন। তবে সম্প্রতি প্রতিপক্ষ বাধা দেওয়ায় জমিটি খিল (অনাবাদি) পড়ে রয়েছে।
যুবলীগ নেতা শামীম-আল-সাইফুল সোহাগ অভিযোগ করেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাদের বৈধ জমি দখলের চেষ্টা করছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে নজরুল ইসলাম নকু জানান, তার দাদা আমির হোসেনের কাছ থেকে মেয়াদি পাট্টা হিসেবে ওই জমি খালেকদের দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ। মেয়াদ শেষে জমি ফেরত চাইলে সাবেক যুবলীগ নেতা সোহাগ ক্ষমতার প্রভাবে মারধরের হুমকি দিয়ে জমি দখলে রাখেন। তিনি কোনো হামলায় জড়াননি এবং বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের দাবিও ভিত্তিহীন।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়াতেই নিষ্পত্তি হবে। তবে জমিসংক্রান্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।







