গলাচিপা প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তিন গুণ রোগী ভর্তি থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। আইসোলেশনের অভাব ও শয্যাসংকটের কারণে করিডোর থেকে শুরু করে মেঝেতেই গাদাগাদি করে চলছে রোগীদের চিকিৎসা। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ছোঁয়াচে রোগ হামে আক্রান্ত শিশুদের পাশেই চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু রোগীরা। এতে হাসপাতালে এক রোগীর থেকে অন্য রোগীর দেহে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র ঝুঁকি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন এবং ডেঙ্গু নিয়ে ১০৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে ২১ জন হাম ও ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৫০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে মোট ১৪৮ জন রোগী ভর্তি থাকায় সাধারণ ও সংক্রামক রোগীদের আলাদা রাখার মতো কোনো কক্ষ বা বেড খালি নেই।
হাসপাতালের সরজমিন চিত্রে দেখা যায়, সংক্রামক ব্যাধি হওয়া সত্ত্বেও হামে আক্রান্ত শিশু এবং মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগীরা একই কক্ষে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চরবিশ্বাস ইউনিয়নের সালমা বেগম চার দিন আগে তার মেয়ে সারামনিকে হামের চিকিৎসার জন্য ভর্তি করিয়েছেন। ক্ষোভ ও আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার মেয়ের পাশের বেডেই ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। ছোঁয়াচে রোগের পাশে এভাবে চিকিৎসা নেওয়া চরম ঝুঁকির, কিন্তু বাধ্য হয়ে শঙ্কার মধ্যেই থাকতে হচ্ছে।”
একই কক্ষে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডাকুয়া ইউনিয়নের ডেঙ্গু আক্রান্ত এবাদুল মিয়া। তিনি জানান, “চারপাশে হাম আক্রান্ত শিশুদের মাঝে আমি চিকিৎসা নিচ্ছি। নার্সদের কাছে কয়েকবার মশারি চেয়েও পাইনি। সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের পাশে থাকতে আমার নিজেরও খারাপ লাগছে, কিন্তু উপায় নেই।”
ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসার বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “আমাদের ৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন তিন গুণ রোগী সামলাতে হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য নিত্যদিনের চ্যালেঞ্জ। হাম রোগীদের জন্য আলাদা পাঁচটি বেডের ব্যবস্থা করা হলেও অতিরিক্ত রোগীর চাপে সেটি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
চিকিৎসক ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত আক্রান্তদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড গঠন এবং পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা না হলে হাসপাতালে থেকেই মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে এসব রোগ।






