পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় উপকূলীয় এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার ৪২০টি পরিবার এবং ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪ হাজার ৫৭৪টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গাছগুলো সুরক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৭০০ গজ বেষ্টনী জাল।
গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের (GCF) অর্থায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (PKSF) কারিগরি সহযোগিতায় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) বাস্তবায়িত ‘আরএইচএল’ প্রকল্পের আওতায় গত ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী এ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রকল্প সূত্র জানায়, দুই দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে উপজেলার দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তিনটি মাদ্রাসা ও চারটি মসজিদসহ মোট ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে গাছের চারা প্রদান করা হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচটি নারিকেল, ১৫টি সুপারি, তিনটি মেহগনি, চারটি আম, দুটি কদবেল, দুটি নিম এবং একটি করে অর্জুন, সবেদা ও জারুলগাছের চারা দেওয়া হয়েছে। গাছগুলোর সুরক্ষায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০০ গজ করে বেষ্টনী জালও প্রদান করা হয়।
এছাড়া উপজেলার ৪২০টি পরিবারের মধ্যে ১০টি করে বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুটি নারিকেল, চারটি সুপারি, দুটি মেহগনি এবং একটি করে কদবেল ও আমের চারা। চারা সুরক্ষায় প্রতি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ৩০ গজ করে বেষ্টনী জাল।
আয়োজকরা জানান, উপকূলীয় এলাকায় বৃক্ষরোপণ ত্বরান্বিত করা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব দূর করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি ফলজ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে স্থানীয় পরিবারগুলোর পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে কোডেকের আরএইচএল প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. আবু বকর ছিদ্দিক, এলাকা ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. কামরুল হাসান, স্থানীয় সমাজসেবক মো. আনোয়ার হাওলাদার ও আসাদুজ্জামান অরুন মীরসহ স্থানীয় সাংবাদিক এবং প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







