সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: গতকাল দুপুর ২টার দিকে পটুয়াখালীরা কলাপাড়ার পায়রাসহ উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি। দুপুরের পর থেকেই বাতাসের গতিবেগে বাড়তে শুরু করে, একপর্যায়ে ঘন্টায় ৮০ থেকে ৮৩ কিলোমিটার বেগে উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করেছে জানিয়েছেন স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মাহবুবা সুখী।
এদিকে জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ২০০ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। ধমকা হাওয়ার পাশাপাশি পটুয়াখালী জেলায় গত দুই দিন থেকেই বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার অধিকাংশ এলাকার আমন ক্ষেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টির হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, মাঠে এখন আমন ধান রয়েছে। এমন সময় ঘূর্ণিঝড় টা হলো, যহন ধানের ফুলে মাঠ ভরা। এই সময়ে বাড়তি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া যদি থাকে তাহলে ধান পানিতে হেলে পড়বে। আর এতে করে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে। কারণ বেশি বৃষ্টি হলে ফসলি মাঠে পানি জমে যাবে। তারপর আমাদের আর কিছু করার থাকবে না।
পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার ৮ উপজেলার প্রায় অনেক এলাকায় রোপণকৃত আমন ও ইরি হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বৃদ্ধি পেলে শীতের সবজির ক্ষেতেও ক্ষতির মুখে পরতে পারে। জেলায় এবার লক্ষমাত্রার থেকেও বেশি আমন চাষ হয়েছে। বর্তমানে মাঠে ১ লক্ষ ৯১ হাজার ১১৯ হেক্টর জমিতে আমন ধান আছে। তার মধ্যে ৫ ভাগ ধান পেকেছে, যেটা কৃষক কর্তন করতেছে। আর ২০ ভাগ দান আধা পাকা অবস্থায় আছে। এছাড়া ৭৫ ভাগ ধান ফুল অবস্থায় আছে, যা ঝড় হাওড়া বেশি হলে চিটায় পরিণত হতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আরও বৃষ্টি ও বাতাস বাড়লে ধানের ফুলে আমাদের চিটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সামনে দিনে কৃষকরা উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা তথ্য সংগ্রহ করেছি, আমাদের কমকর্তারা মাঠে আছে, দ্রুত একটি ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান দিতে পারবো। তিনি আরও বলেন, ধান ছাড়াও পানের বরজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। যা দৃশ্যমান হচ্ছে না।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সভাপতি ও জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম বলেন, জেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিলো। জেলায় ৭০৩ টি আশ্রয়, ৩৫ টি মুজিব কেল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। এতে প্রায় চার লক্ষ দুর্গত মানুষ ও লক্ষাধিক গবাদিপশুর আশ্রয়ের ব্যবস্থাকরা যেত। প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি- বেসরকারি বহুতল ভবনগুলোও ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। যেহেতু সংকেত নেমে এসেছে, তাই আর বড় ধরনের কোন ঝুঁকি নেই। তবে কিছু টা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটা নিরুপনের কাজ চলমান আছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেলটিমসহ সিপিপি, রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিসের কমিউনিটি ভলান্টিয়ারসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রায় ৯হাজার সদস্যদের প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা সকাল থেকেই সংকেত প্রচার করছেন। এছাড়াও দুর্গতদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্য পানি ও শিশু খাদ্যের জন্য ৮ লক্ষ টাকা ও ৬৫০ মেট্রিকটন চাল খাদ্য শস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর গত ঘূর্নিঝড়ের জরুরি বরাদ্দ আছে ২০ লক্ষ টাকা।







