ইলিশের ভরা মৌসুমেও পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে দেখা দিয়েছে ইলিশের তীব্র সংকট। দিনভর নদীতে জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছের দেখা মিলছে না। অধিকাংশ জেলেই প্রায় খালি হাতে ঘরে ফিরছেন। ফলে উপজেলার বিভিন্ন জেলে পল্লীতে এখন চরম হতাশার ছায়া। মাছ বিক্রি করে আয় না থাকায় শত শত জেলে পরিবার তীব্র আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ ও অভাব-অনটনের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
উপজেলার তিন দিক বেষ্টিত পায়রা ও লোহালিয়া নদী দীর্ঘদিন ধরেই ইলিশ আহরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। তবে চলতি মৌসুমে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা নদীতে অবস্থান করে জাল ফেলছেন তারা। দিনশেষে যে পরিমাণ ইলিশ মিলছে, তা দিয়ে জ্বালানি তেল, বরফ ও নৌকার অন্যান্য খরচের টাকাই উঠছে না। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
পাংগাশিয়া ইউনিয়নের আলগী জেলে পল্লীর মো. বশির বিশ্বাস, রাজগঞ্জ এলাকার আবুল কালাম এবং আংগারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের জেলে আব্দুল বারেক হাওলাদার তাদের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আগে এই সময়ে নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়া যেত। এখন সারাদিন জাল ফেলেও বেশিরভাগ সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। একদিকে সংসার চালানো ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ, অন্যদিকে মহাজনের দাদন ও বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তি- সব মিলিয়ে আমরা এখন দিশেহারা।’’
জেলে ও নদী সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পায়রা ও লোহালিয়া নদীর বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিনের পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে এবং অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠেছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও স্রোতের এই পরিবর্তনের কারণেই ইলিশের দল তাদের বিচরণপথ বদলে ফেলছে। ফলে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইলিশ ধরা পড়ছে না।
ইলিশের এই সংকটের প্রভাব শুধু জেলেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ইলিশের ওপর নির্ভরশীল মাছ পরিবহন খাত, বরফকল ব্যবসায়ীবৃন্দ, আড়তদার ও খুচরা মাছ বিক্রেতাসহ সবারই আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘‘পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে ইলিশ কম ধরা পড়ার বিষয়টি মৎস্য বিভাগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মূলত নদীর নাব্যতা সংকট, স্রোতের পরিবর্তন, আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে মাছের বিচরণে এই প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’







