মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় গত ২১ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে একটি অডিটোরিয়াম ভবন। যার ফলে সরকারের লাখ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৭ জুলাই তৎকালীন বিএনপি সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী (এমপি) সুবিদখালী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে এই মির্জাগঞ্জ অডিটোরিয়াম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পটুয়াখালী জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে ৩০ শতাংশ জমির উপরে ৬৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণকাজের ঠিকাদার নিযুক্ত হয় মেসার্স মনিরুজ্জামান মনির এন্টারপ্রাইজ।
ভিত্তিপ্রস্তরের পর প্রথম এক বছরের মধ্যে ভবনের প্রায় অর্ধেক কাজ সফলভাবে শেষও হয়। কিন্তু এর কিছুদিন পর দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলে অডিটোরিয়ামটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি থমকে যায়| তারপর থেকে এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটিতে আর কাজে হাত দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ভবনটি লতাপাতা ও পরগাছায় ঢেকে ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। ভবনের ইটগুলো শ্যাওলা পড়ে গেছে, রড গুলো মরিচা পড়ে যাচ্ছে। ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় মাদকসেবীদের আশ্রয়ন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এছাড়া একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ পুরো উপজেলাবাসী দীর্ঘকাল ধরে নানামুখী নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন| অডিটোরিয়ামটি সচল না থাকায় এলাকায় কোনো বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার বা সভার আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ এই অপচয়ের অবসান ঘটিয়ে ভবনটি দ্রুত সংস্কার ও পুনরায় নির্মাণের মাধ্যমে ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য বর্তমান প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এর স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান মনির বলেন, বরাদ্দকৃত টাকার কাজ করা হয়েছে। প্ল্যান অনুযায়ী ইস্টিমিট ভুল থাকায় কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে এক কোটি ৭ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাদ্দের সুপারিশ করা হলে, মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, পরিদর্শন শেষে পরিত্যক্ত ভবন গুলো পুনঃনির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







