এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নামাজ রত অবস্থায় একটি মসজিদের পাটাতন ভেঙে মুসল্লিদেরসহ পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় নিরুপায় হয়ে সড়কের মাঝেই নামাজ আদায় করছেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এতে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কলাপাড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও টিয়াখালী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুমন গাজী। তিনি দুর্ভোগে পড়া মুসল্লিদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদটি সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। যুবনেতার এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় মুসল্লিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের মধ্য রজপাড়া এলাকায় প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে ‘বাইতুল মামুর জামে মসজিদ’টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মসজিদটি নির্মাণের সময় নিচে পানি থাকায় কাঠের পাটাতন দিয়ে মেঝে তৈরি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পানি ও আদ্রতার কারণে কাঠ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত শুক্রবার (১০ জুলাই) আসর নামাজ আদায়ের পর হঠাৎ করে পুরো পাটাতনটি ভেঙে মুসল্লিদেরসহ পানিতে পড়ে যায়।
মসজিদের মুসল্লি মো. ইসমাইল আকন ও জহিরুল ইসলাম জানান, কাছাকাছি অন্য কোনো মসজিদ না থাকায় তারা এখন বাধ্য হয়ে সড়কের মাঝেই নামাজ আদায় করছেন। হঠাৎ বৃষ্টি এলে নামাজ পড়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে যুবনেতা সুমন গাজী দ্রুত মসজিদটি মেরামতের দায়িত্ব নেওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুর রহমান এবং মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি মবিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘কাঠ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখন নামাজ আদায় করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমরা জায়গাটি বালু দিয়ে ভরাট করে স্থায়ীভাবে মসজিদটি সংস্কারের জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।’’
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও টিয়াখালী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুমন গাজী বলেন, ‘‘মধ্য রজপাড়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদটি ভেঙে যাওয়ায় সড়কের মাঝে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে দেখে খুবই কষ্ট লেগেছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে মুসল্লিরা দ্রুত আবার মসজিদে ফিরে নামাজ আদায় করতে পারেন।’’
যোগাযোগ করা হলে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, ‘‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন দিলে সরকারি বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’







