স্বাধীনতার পর থেকে ক্ষমতার রাজনীতিতে থাকা দলগুলো লুটপাট ও দুর্নীতির মাধ্যমেই টিকে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, ‘‘যারা ক্ষমতার রাজনীতি করে আসছেন স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত- আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইবেন এখন তো জামায়াতে ইসলামীও তাদের সাথে যোগ দিয়েছে। তারা রাজনীতিটাই তো করে লুটপাট করার জন্য।’’
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ- পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘‘তাদের নেতারা দুর্নীতি করে, লুটপাট করে টাকা কামায় আর কর্মীরা চাঁদাবাজি করে। যদি চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এসব দলের কোনো কর্মী থাকবে না। আর দুর্নীতি বন্ধ হয়ে গেলে এসমস্ত দলের নেতা থাকবে না। এই সমস্ত দলগুলো চলেই হলো দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির ওপর নির্ভর করে। এদের মধ্যে যদি ক্ষমতার হাতবদল হয়- মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না, রাষ্ট্র সঠিক ভাবে চলবে না।’’
সংস্কার প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে মহাসচিব বলেন, ‘‘অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলো। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো যারা অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলাম, অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটা সনদে সাক্ষর করেছিলাম। যাতে ঐক্যমত কমিশন দীর্ঘদিন বসে তারা একটি সনদ তৈরি করেছে। তখন দেখতাম দুইটা পক্ষ ছিলো সেখানে। কেউ সংস্কারে পক্ষে, মৌলিক সংস্কারের পক্ষে আবার কেউ মৌলিক সংস্কারের বিপক্ষে। আমরা যারা মৌলিক সংস্কারের পক্ষে ছিলাম, এদের মধ্যে আমাদের মধ্যে মতের পার্থক্য ছিল কিন্তু রাষ্ট্রের সংস্কারের পক্ষে আমরা একই ছিলাম।
সেই ধারাবাহিকতায় আমরা নির্বাচনেও একসাথে করার একটা পরিবেশ তৈরি করেছিলাম। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় যারা তখন মৌলিক সংস্কারের বিপক্ষে ছিল, তারা ছিলো বিএনপির কাতারে। মানে বিএনপির সুরে তারা সুর মিলাইতো। এখন দেখলাম সেই সংগঠন গুলোই জামায়াতের মঞ্চে গিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়, তারাই সরকার পতনের জন্য বিভিন্ন স্লোগান দেয়। আবার সংস্কারের কথা বলে, জুলাই সনদের কথা বলে। তারাই কিন্তু ঐক্যমত কমিশনে বিএনপির সুরে সুর মিলিয়েছিল এবং সংস্কার কার্যক্রমকে তারা দুর্বল করেছে।’’
নির্বাচন প্রসঙ্গে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘‘কারা যে সরকারি দল আর কারা যে বিরোধী দল- এখন এটাই বুঝতে পারি না। এই নির্বাচনটাও হয়েছে এরকম গোলেমালে। এই নির্বাচন আমরা যেমন চেয়েছিলাম, জনগণ যেমন চেয়েছিল, আমরা আসলে তেমন নির্বাচন পাইনি। অনেক এলাকায় ২০%-২৫% ভোট কাস্ট হয়েছে, দেখানো হয়েছে ৫০%-৬০%।’’
সম্মেলনে হাওলাদার মোঃ সেলিম মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) এর খলিফা আলহাজ্ব মুফতি মাওলানা হাবিবুর রহমান খান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নেছার উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।







