এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে পটুয়াখালীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ। বিদ্যালয়টিতে প্রায় শতভাগ পাস করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয় বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও আনন্দ উৎসব।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মোট ১২৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে অনিয়মিত মাত্র একজন শিক্ষার্থী ছাড়া বাকি ১২৪ জন পরীক্ষার্থীই সফলতার সাথে পাস করেছে।
কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের এই পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৮ জন এবং জিপিএ-৪ পেয়েছেন ৬২ জন শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের এই ঈর্ষণীয় সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে উপাধ্যক্ষ শাহানারা আক্তার বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান এবং অভিভাবকদের সঠিক সহায়তার ফলেই আজ আমরা এই গৌরবোজ্জ্বল ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। আমরা আশা করি আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’’
পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের পাশাপাশি জেলার ঐতিহ্যবাহী অন্য দুই শীর্ষ বিদ্যাপীঠ—পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এও এসেছে ঈর্ষণীয় ফলাফল। পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ বছর পাসের হার ৯১.৬৭ শতাংশ। মোট ২২৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে কৃতিত্বের সাথে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৫৫ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে পটুয়াখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাসের হার আরও বেশি, যা ৯৬.০২ শতাংশ। মোট ২৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে দুর্দান্ত ফলাফল করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৭০ জন ছাত্রী।
এছাড়াও জেলার অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতেও এ বছর ফলাফল তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সামগ্রিক এই ফলাফলে পুরো পটুয়াখালী জেলাজুড়ে শিক্ষা অঙ্গনে বইছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
জেলার সামগ্রিক এই ফলাফলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জেলা শিক্ষা অফিসার মুহা: মুজিবুর রহমান বলেন, ‘‘এবছর পটুয়াখালী জেলায় এসএসসির ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজসহ আমাদের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরাও দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে। শিক্ষকদের নিয়মিত তদারকি, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সচেতনতার ফলেই এই ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমরা আশা করি আগামীতে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীরা দেশের সম্পদে পরিণত হবে।’’







