মহিপুর প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর মহিপুরে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের তোলা ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির ক্রয়সূত্রে মালিক মো. ইমরান। বুধবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় মহিপুরের বিরোধীয় জমি সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এ প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইমরান দাবি করেন, আদালতে বিচারাধীন মামলার স্থগিতাদেশ অমান্য করার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সত্যের অপলাপ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, মহিপুর থানার ইউসুফপুর মৌজার জে.এল. নং-৪০, বি.এস. দাগ নং-২৩০৩/২৩০৭, খতিয়ান নং-৮১৬-এর ১.১৮ একর জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি বর্তমানে কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা (নং-২৫৩/২০২৬) হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।
ইমরান অভিযোগ করেন, গত ২২ জুলাই কলাপাড়া আদালত উভয় পক্ষকে জমিতে স্থিতাবস্থা (Status quo) বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের পর মজিবুর রহমানের পক্ষের লোকজন তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জমিতে থাকা তাদের একটি পূর্বনির্মিত স্থাপনা বেআইনিভাবে ভেঙে ফেলে প্রতিপক্ষ। এই ঘটনায় তিনি আইনগত প্রতিকার চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার আইনি প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ২২ জুলাইয়ের আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে আইন নিজের হাতে না নিয়ে তিনি পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে ‘মিস আপিল’ (নং-৪০/২০২৬) দায়ের করেন। পরে গত ৪ আগস্ট জেলা জজ আদালত আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং কলাপাড়া আদালতের ২২ জুলাইয়ের স্থিতাবস্থার আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। উচ্চতর আদালতের সেই স্থগিতাদেশ পাওয়ার পরই পূর্বে ভেঙে ফেলা স্থাপনাটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিপক্ষের তোলা গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জমি বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানান ইমরান। তিনি বলেন, “জমির বিরোধে স্থানীয় বিএনপি নেতার সহযোগিতার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি দেওয়ানি বিরোধকে রাজনৈতিক রং দেওয়া একদম অনুচিত।”
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি। ইমরান বলেন, পুলিশ কখন ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, কী পরিস্থিতিতে গিয়েছিল এবং কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—তা একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া উচিত।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো একক পক্ষের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য, আদালতের নথি ও সাম্প্রতিক আদেশ যাচাই করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা উচিত।
তিনি জমিটির মালিকানা ও দখলের বিষয়টি আদালতের ওপর ছেড়ে দিয়ে ঘোষণা দেন যে, আদালতের যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।







