বাউফল প্রতিনিধি : সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পটুয়াখালীর বাউফলে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে ‘সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি ভুয়া এনজিও। জমানো টাকা হারিয়ে এখন দিশেহারা ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাউফল পৌরশহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ রোডে অবস্থিত ‘জালাল প্লাজা’র একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে কয়েক দিন আগে ‘সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এরপর এনজিওটির কর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে সহজ শর্তে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয় ও প্রক্রিয়াফি বাবদ টাকা তুলতে থাকেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। নির্ধারিত সময়ে ঋণ নিতে অফিসে এসে গ্রাহকেরা দেখতে পান দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মী নেই। কক্ষে শুধু ডেকোরেটর থেকে ভাড়া আনা কয়েকটি চেয়ার-টেবিল পড়ে আছে। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীরা সেখানে হট্টগোল শুরু করেন এবং একপর্যায়ে পুলিশে খবর দেন।
ভুক্তভোগী আজিজ জানান, ‘‘আমাকে চার লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে দুই নামে ৩৭ হাজার টাকা নিয়েছে মাঠকর্মী। আমার মতো প্রায় ১০০ জন মানুষের কাছ থেকে তারা ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে। সব মিলিয়ে আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ ১৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।’’ আকস্মিক এই জালিয়াতিতে সর্বস্ব হারিয়ে প্রশাসনের কাছে টাকা উদ্ধার ও প্রতারকদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ভবনের মালিক জালাল চৌকিদার বলেন, ‘‘এনজিওটির লোকজনের সঙ্গে ওই দিন বিকেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিপত্র সই হওয়ার কথা ছিল। তারা এভাবে মানুষের টাকা নিয়ে পালাবে তা জানা ছিল না।’’
বাউফল উপজেলা এনজিও সমন্বয়কারী ও আরডিএস-এর পরিচালক আব্দুল খালেক জানান, ‘সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে কোনো এনজিওর বাউফলে কার্যক্রমের তথ্য তাদের জানা নেই। এমনকি উপজেলা জিও-এনজিওর কোনো সমন্বয় সভাতেও তাদের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছিল না।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’







