মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ইউনিয়ন ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি অনুমোদন কেন্দ্র করে তীব্র সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের ৯ জন শীর্ষ নেতাকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দিয়েছে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদের স্বাক্ষরে এই নোটিশ ইস্যু করা হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া নেতারা হলেন— মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবুল বাশার মোকলেছ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল মুধা, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রাজিব হোসেন, সহ-সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহীম, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কাওসার ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক মো. রাকিব হোসেন এবং সদস্য মো. রাকিব মিয়া।
নোটিশে বলা হয়েছে, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত নেতাদের একই দিন (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদল কার্যালয়ে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে জেলা আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী ও সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদের কাছে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি গঠন ও অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নেতাকর্মীদের দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি দুটি পক্ষই আলাদাভাবে নিজ নিজ অনুসারীদের দিয়ে ইউনিয়ন কমিটি অনুমোদন দেয়। এর ফলে উপজেলাজুড়ে চরম সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও অসন্তোষ তৈরি হয়। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই কঠোর অবস্থানে যায় জেলা কমিটি।
নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বাশার মোকলেছ বলেন, ‘‘আমরা নোটিশ হাতে পেয়েছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সার্বিক বিষয়ে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করব।’’
ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী শক্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘‘দলের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযুক্ত নেতাদের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’







