মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : চিকিৎসা গ্রহণ ও দোকানের জন্য মালামাল কিনতে রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাবা ও ছেলে। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাখরেকান্দি পুনর্বাসন কেন্দ্রসংলগ্ন মাদবরের কান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবু জাফর মৃধা (৫৫) এবং তাঁর ছেলে মির্জাগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিক মৃধা (১৪)। নিহত জাফর মৃধা উপজেলা সদরের সুবিদখালী নান্নু শপিং কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে একটি গার্মেন্টসের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন জাফর মৃধা। পথিমধ্যে মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে পালকি পরিবহনের একটি বাসের চাকা পাংচার হলে চালক ও হেলপার তা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় বরগুনা থেকে ঢাকাগামী দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পালকি পরিবহনের বাসটিকে সজোরে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বাসের সামনের ও পেছনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ধাক্কার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হন। এ সময় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদারীপুর জেলার শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাকিল আহম্মেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। নিহত তিনজনের মধ্যে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের বাবা-ছেলেও রয়েছেন।
এদিকে বাবা-ছেলের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে মির্জাগঞ্জ ও নান্নু শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নান্নু শপিং কমপ্লেক্সের স্বত্বাধিকারী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন নান্নু মুন্সী শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘‘জাফর মৃধা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মার্কেটে অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা করছিলেন। সকালে ছেলের চিকিৎসা ও মালামাল কেনার কথা বলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। এই অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।’’
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, শিবচর হাইওয়ে থানার ওসির সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।







