কলাপাড়া প্রতিনিধি : উপকূলীয় জনপদ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে ছাদ কৃষি। প্রচলিত সবজি চাষের গণ্ডি পেরিয়ে এবার অসময়ে ছাদে মাচায় ঝুলছে রসালো কালো রঙের ‘ব্ল্যাক বেবি’ জাতের তরমুজ। উদ্ভাবনী এই উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন ধুলাসার ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের কৃষক মো. সেলিম গাজী।
গ্রীষ্মকালীন এই তরমুজ চাষে পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে। সরজমিনে দেখা যায়, তার বাড়ির ছাদে জিওব্যাগ ও বস্তায় তৈরি বিশেষ মাটিতে বাঁশ ও সুতার মাচায় ঝুলছে সারি সারি কালো তরমুজ। ফলের ওজন ও ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি তরমুজকে লাল রঙের জাল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। অসময়ে সবুজ পাতার নিচে কালো তরমুজের এই সমারোহ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক এলাকাবাসী।
উদ্যোক্তা সেলিম গাজী জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুর দিকে অনলাইন থেকে বীজ সংগ্রহ করে ইউটিউব দেখে আধুনিক চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন। মাটির সঙ্গে জৈব সার ও গরুর গোবর মিশিয়ে প্রায় সাত হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তিনি তরমুজসহ শসা, করলা ও লাউয়ের চাষ শুরু করেন। প্রাথমিক বৃষ্টিতে কিছু চারা নষ্ট হলেও ২৫টি সফল চারা থেকে প্রায় ৪০টি সুস্বাদু তরমুজ ফলনে সমর্থ হন তিনি।
সেলিম গাজী বলেন, ‘‘মাচায় অসময়ে তরমুজ চাষের এই সফলতা পরিবারে আর্থিক স্বস্তি এনে দিয়েছে। শুরুতে সামান্য খরচ হলেও পরবর্তীতে পরিচর্যা ও খরচ উভয়ই কম। আগাছা বা বারবার সার দেওয়ার ঝামেলা নেই। আমার এ সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এবং পরামর্শ নিচ্ছেন। আগামীতে ৫০টি জিও ব্যাগে আরও বড় পরিসরে এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’’
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস গাজী তার প্রশংসা করে বলেন, ‘‘সেলিম গাজী একজন পরিশ্রমী ও আদর্শ কৃষক। বিষমুক্ত সবজি ফলিয়ে তিনি নিজের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি প্রমাণ করেছেন যে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ছোট পরিসরেও কৃষিতে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।’’
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন জানান, বর্ষা মৌসুমে মালচিং পদ্ধতিতে ব্যাগ বা জিওব্যাগে তরমুজ চাষ অত্যন্ত লাভজনক। এ ধরনের আধুনিক ও বাণিজ্যিক ছাদ কৃষিতে আগ্রহী নতুন চাষীদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।







