কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পাখিমারা খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা, নেয়ামতপুর ও এলেমপুর গ্রামের পাঁচ শতাধিক সবজি চাষি। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাদা, নৌকা ও নিজেদের তৈরি ভাসমান ড্রাম সেতু পার হয়ে পাখিমারার পাইকারি বাজারে কৃষিপণ্য পৌঁছে দিতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়দের মতে, এই তিন গ্রাম থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়, যা কলাপাড়া উপজেলার মোট সবজির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ মেটায়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব পণ্য বাস, ট্রাক ও পিকআপযোগে সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে যোগাযোগের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কৃষকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
কৃষকদের কষ্টের কথা তুলে ধরে কুমিরমারার প্রবীণ চাষি সুলতান গাজী বলেন, “৪০-৪৫ বছর ধরে সবজি চাষ করছি। সাড়ে পাঁচশ কৃষক কোটি কোটি টাকার সবজি ফলিয়েও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে বাজারজাত করতে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন। এত বছরেও এখানে একটি পাকা ব্রিজ হলো না।”
স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, ৩০০ ফুট প্রশস্ত এই খাল পার হতে বর্তমানে কৃষকরা নিজদের অর্থায়নে ও এনজিওর সহায়তায় তৈরি ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতনের একটি ভাসমান সেতু ব্যবহার করছেন। বারবার এটি মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬ সালে চাকামিয়া এলাকার ভেঙে পড়া একটি আয়রন ব্রিজের মালামাল এনে পাখিমারা খালে একটি সেতু করা হলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে দুই বছরের মধ্যেই তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। নির্বাচনের সময় বারবার স্থায়ী সেতুর প্রতিশ্রুতি মিললেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
যোগাযোগ সংকট নিরসনে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান জানান, সবজি চাষিদের সুবিধার কথা ভেবে এখানে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “কুমিরমারা ও আশপাশের কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করতে পাখিমারা খালের ওপর ৪৯০ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ব্রিজের ডিজাইন সম্পন্ন হওয়ার পথে এবং নেভিগেশন ছাড়পত্রও নেওয়া হয়েছে। একনেকের (ECNEC) অনুমোদন পেলেই দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু হবে।”
দীর্ঘ তিন দশকের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন চান স্থানীয় কৃষকরা। এটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন গতি সঞ্চারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







