মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : সদ্য ঘোষিত উপজেলা যুবদলের আংশিক কমিটি বাতিলের দাবিতে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজপথে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন পদবঞ্চিত যুবদলের নেতাকর্মীরা।
রবিবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট এলাকা থেকে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা, দলীয় ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘ত্যাগীদের মূল্যায়ন চাই’, ‘বিতর্কিত কমিটি মানি না’—এমন নানা স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
কোর্ট এলাকায় আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সুজন হাওলাদার, বাবুল মুন্সি, সৌরভ মুন্সি এবং যুবদল নেতা সোহেল রানা ও রাসেল মৃধাসহ অন্যান্য পদবঞ্চিত নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আমরা দলের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলাম। মামলা-হামলা ও জেল-জুলুম মাথায় নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। অথচ আজ দলের সুদিনে এসে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে একটি একপাক্ষিক আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা তৃণমূলের প্রত্যাশার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।’’
তারা আরও বলেন, ‘‘আমাদের এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। আমরা চাই একটি স্বচ্ছ, ত্যাগভিত্তিক ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য কমিটি। দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নিবেদিতপ্রাণদের নিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করা হোক। দলকে শক্তিশালী করতে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন বন্ধ করে অবিলম্বে এই আংশিক কমিটি বাতিল করতে হবে।’’ একই সাথে সংকট নিরসনে তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য, একই দাবিতে এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি ঘিরে সকাল থেকেই মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ কোর্ট এলাকাসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে ছিল। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।







