কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গত দুই দিন ধরে অব্যাহত ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণে থমকে গেছে জনজীবন। গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টা থেকে আজ সকাল নয়টা পর্যন্ত খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস উপজেলায় ১৫৪.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। টানা এই বৃষ্টিতে শহর ও গ্রামীণ জনপদে চরম স্থবিরতা নেমে আসার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।
বৃষ্টির পানিতে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নিচু স্থান জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার অসংখ্য পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বিস্তীর্ণ আমন ধানক্ষেত ও বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে থাকায় এবং বর্ষাকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
মহিপুর ইউনিয়নের আমন চাষী আ: রহিম আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘‘দুই দিনের বৃষ্টিতে আমনের সব বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। আর বৃষ্টি হলে চারা সব পচে নষ্ট হয়ে যাবে।’’
একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানান নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সবজি চাষী মো: সত্তার। তিনি বলেন, ‘‘টানা বৃষ্টিতে খেতের সবজির গোড়া পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সবজি ও বীজ পচে যাওয়ার আতঙ্কে আমরা এখন আল্লাহর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।’’
কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলের সংকট মোকাবিলায় কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আরাফাত হোসেন জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কৃষকরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃষকদের নিজ নিজ এলাকার স্লুইসগেটগুলোর দিকে নজর রাখার এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পটুয়াখালী, খুলনা, বরিশাল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে এসব অঞ্চলের নদী বন্দরসমূহকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।







