কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রায় তিন দশক ধরে ভোগদখলে থাকা একটি বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুধু দখল চেষ্টা নয়, ভুক্তভোগী পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখা, মিথ্যা মামলা এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. সেলিম মুন্সী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে অসুস্থ সেলিম মুন্সীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহীন আলম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৯৫ সালে জমি ক্রয় করে বাড়িঘর নির্মাণ করে বিগত ৩১ বছর ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিপুর্ণভাবে বসবাস করছেন সেলিম মুন্সী। জমিটির এসএ ও বিএস রেকর্ড (বিএস খতিয়ান- ১১২২, দাগ নম্বর- ৪০৯১) তার নামেই রয়েছে। তবে কুয়াকাটা ভূইয়া মার্কেটের আচার ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম সুমন ২০২৫ সালে অন্য এক ওয়ারিশের কাছ থেকে একই দাগ-খতিয়ানে ২১ শতক জমি ক্রয় করেন। অভিযোগ রয়েছে, মূল দাতার নাল জমি থাকা সত্ত্বেও সুমন অসৎ উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত দলিলের চৌহদ্দি সেলিম মুন্সীর ভোগদখলীয় বাড়ির ওপর দেখান।
জমি সংক্রান্ত এই বিরোধের জেরে সেলিম মুন্সী কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে মামলা করলে আদালত গত ২ সেপ্টেম্বর বিবাদী জাহিদুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে উক্ত জমির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করে ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে জাহিদুল ইসলাম সুমন বহিরাগত ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তারা পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলে পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে পরিবারটির নারী ও শিশুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেলিম মুন্সী জানান, ৪ ও ৯ বছরের দুই শিশুসহ ঘরে থাকা অসুস্থ স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাহিদুল ইসলাম সুমনকে ‘ভূমিদস্যু ও প্রতারক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, নকল বার্মিজ আচার ও চকোলেট বিক্রির অভিযোগে পূর্বে সময় টিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে জরিমানাও করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রভাবশালী সুমনের হাত থেকে বাঁচতে এবং স্বাভাবিক জীবনের ফিরতে মহিপুর থানা পুলিশসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
অন্যদিকে, বিষয়টিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম সুমন জানান, তিনি ২০২২ সালে মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেছিলেন। উল্টো তাকেই নিজের জমিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।







