গলাচিপা প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর গলাচিপায় জমি দখল ও তরমুজ চাষের উদ্দেশ্যে বন বিভাগের ম্যানগ্রোভ প্রকল্পের ৪ শতাধিক গাছ স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চর আগস্তি বিটের অধীন দক্ষিণ চর বিশ্বাস ম্যানগ্রোভ বাগানে এ ঘটনা ঘটে। বন উজাড়ের এই ঘটনায় ৪ জনকে অভিযুক্ত করে গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে চর আগস্তি বিটের ৭৫ হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভ প্রকল্পের আওতায় এই বনায়ন করা হয়েছিল। শনিবার বিকেলে স্থানীয় শাহিন হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪-৫ জনের একটি দল স্কেভেটর দিয়ে বাগান কেটে তরমুজ চাষের জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু করে। বন বিভাগের কর্মীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা কাজ বন্ধ করে কেটে পড়ে। ততক্ষণে স্কেভেটরের তাণ্ডবে প্রায় চার শতাধিক তরুণ ও বয়স্ক ম্যানগ্রোভ গাছ ধ্বংস হয়ে যায়।
তবে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. শাহিন হাওলাদার দাবি করেন, ‘‘ওই চর ২০০৪-২০০৫ ও ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে গলাচিপা ভূমি অফিস থেকে ভূমিহীন কৃষকদের বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বন বিভাগ কোনো গাছ লাগায়নি, প্রাকৃতিকভাবেই কিছু আগাছা জন্মেছিল।’’
অন্যদিকে গলাচিপা বিট কর্মকর্তা আবদুল বারেক বলেন, ‘‘২০১৫ সাল থেকে ওই চরে আমরা নিয়মিত ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন ও রক্ষাণাবেক্ষণ করে আসছি। শনিবার নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে বনের ভেতর বেআইনিভাবে স্কেভেটর দিয়ে বাঁধ দিতে দেখে আমরা তাত্ক্ষণিক বাধা দিই।’’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গলাচিপা উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী জানান, ‘‘সরকারি বনজ সম্পদ ধ্বংস ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে শাহিন হাওলাদারসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে গলাচিপা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’







