গলাচিপা প্রতিনিধি : শরতের শুভ্র নীল আকাশ আর সাদা মেঘের ভেলা জানান দিচ্ছে দেবীর আগমনী বার্তা। মহালয়ার সুর ধ্বনিত হওয়ার পর থেকেই পটুয়াখালীর গলাচিপায় শুরু হয়ে গেছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ। প্রতিটি পূজামণ্ডপে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
এ বছর গলাচিপা পৌরসভা ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মোট ২৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে পৌর এলাকায় ৪টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে ২২টি মণ্ডপ। ষষ্ঠী পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার ব্যস্ততা ততই বাড়ছে।
বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রায় এক মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছে প্রতিমা গড়ার মূল কাজ। বাঁশ, কাঠ ও খড়ের কাঠামোর ওপর নিপুণ হাতে কয়েক দফায় দেওয়া হয়েছে মাটির প্রলেপ। ধীরে ধীরে ফুটে উঠেছে দেবীর অবয়ব। কারিগরদের হাত ধরে এখন চলছে মুখাবয়ব, অলংকার ও অন্যান্য সূক্ষ্ম কাজের ছোঁয়া। এবার কেবল রং-তুলির চূড়ান্ত আঁচড়ে দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার অপেক্ষা।
প্রতিমাশিল্পীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করছেন তারা। কাজের ধরন ও আকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। পূজা মৌসুমে একেকজন মৃৎশিল্পী সাধারণত ৮ থেকে ১০টি প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব নেন।
শুধু প্রতিমা তৈরিই নয়, মণ্ডপগুলোর প্যান্ডেল নির্মাণ, চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রস্তুতিও চলছে সমানতালে। পূজামণ্ডপ সংশ্লিষ্টদের মতে, মহালয়ার মাধ্যমে উৎসবের যে আবাহন শুরু হয়েছে, তা পূর্ণ রূপ পাবে প্রতিমার রঙের কাজ ও মণ্ডপসজ্জা শেষ হলেই।
আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা; এরপরই ঢাকের বাদ্য, ধূপের সুবাস আর কাঁসরের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠবে গলাচিপার প্রতিটি পূজামণ্ডপ। মাটির কারিগরের নিপুণ ছোঁয়ায় যে আয়োজনের শুরু, দেবী বোধন ও আরাধনার মধ্য দিয়ে তা রূপ নেবে সর্বজনীন আনন্দ-উৎসবে।







