নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহবিষয়ক এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশের ৮টি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রমে বরাদ্দকৃত ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হয়।
পাইলটিং শেষে জুলাই ২০২৬ থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য মোট ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা প্রদান খাতে ব্যয় হবে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে— অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।
নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের সব নারী পরিবারপ্রধানই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম অর্জনকারী প্রথম তিনটি শ্রেণির (অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত) পরিবারপ্রধানেরা ভাতার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন।
তথ্য সংগ্রহের জন্য সারা দেশে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইস ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন, যা সরাসরি মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অনলাইন ডেটাবেইজে যুক্ত হবে।
উপকারভোগীদের দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড (QR Code) এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (NFC) প্রযুক্তি থাকবে। এটি সরকারের ‘টাকাপে’ (TakaPay) পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে কার্ডধারীরা যেকোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (POS) টার্মিনাল এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS)-এর মাধ্যমে সহজেই ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম ফজলুল করিম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু মুছা, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।







