কলাপাড়া প্রতিনিধি : আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী ও অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন আয়োজিত এই বিশাল উৎসবে অংশ নেবেন দেশের খ্যাতনামা তারকা নায়ক-নায়িকা, সংগীতশিল্পী, ফ্যাশন ডিজাইনার, বিনোদন জগতের অভিনেতা এবং জাতীয় দলের তারকা ফুটবল ও ক্রিকেটাররা। উৎসব উপলক্ষে এই দুই দিনে কুয়াকাটায় অন্তত ৩ থেকে ৪ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উৎসবকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও রঙিন ও সাশ্রয়ী করতে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন আবাসন ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড়ের বিশেষ ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদ হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট হোটেল ও মোটেলগুলোর প্রতি চারটি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটার সকল হোটেল ও মোটেলে কক্ষ ভাড়ার ওপর বাধ্যতামূলকভাবে ৫০ শতাংশ ছাড় প্রদান করতে হবে। প্রতিটি হোটেলের অভ্যর্থনা কাউন্টারে এবং অতিথিদের সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে ৫০ শতাংশ ছাড়কৃত ভাড়ার তালিকা স্পষ্টাক্ষরে টাঙিয়ে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ বা তালিকা-বহির্ভূত ফি আদায় করা যাবে না। কার্নিভাল চলাকালীন ও উৎসবের আগের দিনগুলোতে প্রতিটি হোটেল, মোটেল ও এর আশপাশের পরিবেশ সর্বোচ্চ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ইভেন্টটিকে উৎসবমুখর রূপ দিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, মূল ফটক ও সম্মুখভাগ নান্দনিকভাবে সাজাতে হবে এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করতে হবে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান, ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা প্রদান এবং কুয়াকাটার ইতিবাচক সুনাম বজায় রাখার স্বার্থেই এসব সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এসব নির্দেশনা অমান্য করলে বা পর্যটকদের হয়রানির অভিযোগ উঠলে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, “পর্যটন কার্নিভালকে সফল করতে অনেক হোটেল-মোটেল ইতোমধ্যে নতুন রঙে ও নান্দনিক সাজে সাজানো হয়েছে। সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আমাদের আওতাধীন তিন শতাধিক হোটেল-মোটেলের মধ্যে প্রথম শ্রেণির অধিকাংশ হোটেলের কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতেও দ্রুত বুকিং বাড়ছে। আশা করছি কার্নিভালের আগেই শতভাগ কক্ষ বুকিং সম্পন্ন হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পকে সার্বিকভাবে বিকশিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন কর্পোরেশন যৌথভাবে এই কার্নিভালের আয়োজন করেছে। মালিকদের সাথে সর্বসম্মত আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, তাই আশা করি সকলেই এসব নির্দেশনা শতভাগ মেনে চলবেন।”







