কুয়াকাটা প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে নির্মিত আলোচিত পাঁচ তারকা মানের হোটেল ‘ইস্তানবুল’-এর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হোটেলটির যাবতীয় নির্মাণ কাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অভিযানকালে প্রকল্প এলাকায় একটি আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞার ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়— ‘‘এই স্থাপনাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত নির্মাণের কারণে নির্দেশক্রমে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’ আদেশটি যৌথভাবে জারি করেছে কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর তত্ত্বাবধানে ‘ইস্তানবুল’ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছিল। মাসুদ সাঈদী আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র এবং তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ভবনটির নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছিল। যা ‘বিল্ডিং কন্সট্রাকশন অ্যাক্ট, ১৯৫২’ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, কুয়াকাটার অনুমোদিত মাস্টারপ্ল্যানে এই নির্দিষ্ট জমিটি রেলওয়ে স্থাপনা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অথচ সেখানে আইন অমান্য করে বড় পরিসরে বাণিজ্যিক স্থাপনা তোলা হচ্ছিল।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জায়গা জুড়ে ‘ইস্তানবুল’ প্রকল্পের কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। বর্তমান বিএস জরিপ অনুযায়ী জায়গাটি কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাভুক্ত। ইতোমধ্যে সেখানে অন্তত ছয় একর ভূমির উন্নয়ন এবং চারপাশে সীমানা প্রাচীর বা বাউন্ডারি ওয়াল দেওয়ার কাজ শেষ করা হয়েছে।
এদিকে, এই জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন কলাপাড়ার হাড়িপাড়ার বাসিন্দা রাখাইন সম্প্রদায়ের উমাচ্যান। তিনি একটি মামলা দায়ের করে দাবি করেছেন যে, এই জমির প্রকৃত মালিক তার দাদা চিথাও ও নাথোও।
অনুমোদনহীন ও বিতর্কিত জমিতে আইন অমান্য করে নির্মাণকাজ চালানোয় প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদেশের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কেউ কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







