আমন মৌসুমে জলবায়ু সহনশীল ও উচ্চফলনশীল ধানের আবাদ জনপ্রিয়করণের লক্ষ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশুরীবুনিয়া প্রযুক্তি গ্রামে কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের আমন ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, পটুয়াখালীর ব্যবস্থাপনায় এবং “নতুন ০৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি)” প্রকল্পের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে পশুরীবুনিয়া প্রযুক্তি গ্রামে অনুষ্ঠিত এই বীজ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রির কার্যালয় প্রধান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ আশিক ইকবাল খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘‘আধুনিক জাতের ধানবীজের ব্যবহার কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ফলন ও আয় বৃদ্ধি করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপযোগী ধানের জাত মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণে ব্রি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমন মৌসুমে কৃষকদের মাঝে বীজধান বিতরণ করা হয়েছে।’’
বীজ বিতরণ কর্মসূচিতে কৃষকদের মধ্যে সুগন্ধি ব্রি ধান৩৪, জলাবদ্ধতা সহনশীল ব্রি ধান৫২, ব্রি ধান৭৯, উচ্চফলনশীল ব্রি ধান১০৩ এবং জোয়ার-ভাটা সহনশীল ব্রি ধান১০৯ এর বীজ বিতরণ করা হয়। এসব জাত উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে চাষ উপযোগী হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বীজ গ্রহণকারী স্থানীয় কৃষকরা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন। মানসম্মত ও উন্নত বীজ হাতে পাওয়ায় তারা চলতি আমন মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা প্রকাশ করছেন। একই সাথে এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার জন্য তারা ব্রি এবং এলএসটিডি প্রকল্পের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান।
বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে এলএসটিডি প্রকল্পের কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।







