পটুয়াখালীতে সরকারি দুটি দপ্তরের সমন্বয়হীনতার কারণে কোটি কোটি টাকা অপচয়ের এক অভিনব চিত্র ফুটে উঠেছে। এলজিইডির নির্মিত কোটি টাকার পাকা সড়কের ওপর দিয়েই পুনরায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সরকারের বিশাল অঙ্কের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি নবনির্মিত সড়কটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনার সত্যতা পান এবং বিতর্কিত ওই অংশে বেড়িবাঁধের কাজ লাগবে না বলে সিদ্ধান্ত জানান। একই সফরে কাজের ত্রুটির কারণে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ কাজ স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি পটুয়াখালী জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় ‘পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাব’র সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধ প্রকল্পের আওতায় ১৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে একটি সড়ক নির্মাণ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কিন্তু এরই পাশ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ কাজের টেন্ডার আহ্বান করে। পাউবোর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এলজিইডির করা ১৩ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত যাবে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হবে।
বিষয়টি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশে শনিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিন পরিদর্শনে যান পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবের নেতৃত্বে এই পরিদর্শনে অংশ নেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আইরিন আক্তার, দুমকি পানি উন্নয়ন শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মোহাইমিনুল ইসলাম আবীর, পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
পরিদর্শন শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব বলেন, ‘‘এলজিইডির করা ১৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৯ কিলোমিটার পাকা সড়কের পাশে পুনরায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের কোনো প্রয়োজন নেই। বেড়িবাঁধের বাকি কাজগুলো আগামী জুনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।’’
কর্মকর্তাদের এই আশ্বাসে আপাতত কোটি টাকার সরকারি সম্পদ রক্ষা পাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে একই দিনে দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের মহেশখালী খালের ওপর চলমান স্লুইসগেট পুননির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব। পরিদর্শনকালে নির্মাণ কাজে মারাত্মক ত্রুটি ও অনিয়ম ধরা পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাজটি স্থগিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
নির্বাহী প্রকৌশলী সাফ জানিয়ে দেন, পরবর্তীতে সিডিউল ও নকশা অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার পরেই কেবল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করা হবে। অনিয়ম করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।







