পটুয়াখালীতে গৃহবধূ তানিয়াকে নির্যাতন করে হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগীর পরিবার এবং জৈনকাঠীবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে তানিয়ার বাবা-মা, মেয়ে সহ বক্তব্য রাখেন জৈনকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবিএম ফয়েজ আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির মোল্লা, প্রচার সম্পাদক নুর হোসেন বিশ্বাস, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহতাব উদ্দীন প্রমুখ।
এসময় নিহত তানিয়ার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং জৈনকাঠী এলাকার শতাধিক সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।ও
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তানিয়াকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হলেও এখনো মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে মূল আসামিদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিস্বরূপ ফাঁসির জোর দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে- মামলার সকল আসামীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার, প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে খুনিদের ফাঁসি সহ ৩ দফা দাবিতে তার ভাই মোঃ রাকিব পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।
এর আগে চলতি মাসের ১৫ জুলাই যৌতুকের দাবিতে নির্মমভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর মরদেহ গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ এনে নিহত তানিয়ার পিতা অলি মুন্সী (৬০) বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এতে কামাল খান (৪২), লিজা খান (২২), লিমা খান (২০) ও মোসাঃ আম্বিয়া কে আসামি করা হয়।
নিহতের পরিবার জানায়, চলতি বছরের ১৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে আসামিরা তানিয়াকে যৌতুকের দাবিতে ঘরে আটকে রেখে দরজার সাথে মাথা ঠুকে এবং কণ্ঠনালী চেপে ধরে চরমভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে তানিয়া তার খালাতো বোন মারজানাকে (১২) বিষয়টি জানায়, যা পরবর্তীতে নিহত তানিয়ার বাবা অলি মুন্সীর নিকট পৌঁছায়।পরবর্তীতে তানিয়ার বাবা অলি মুন্সী ভোর হওয়ার অপেক্ষায় থাকার মাঝেই আসামিরা তানিয়াকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে লোহালিয়া নাজিরপুর পালপাড়া মন্দিরের পূর্ব পাশে হাসেম আলী খানের বাড়ির পুকুরের পশ্চিম পাশের উত্তর কোণায় একটি কাঁঠাল গাছের ডালের সাথে লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পিতা অলি মুন্সী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।







