পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান লাভলু’র একটি স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনায় পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ‘ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১০ টায় পটুয়াখালী জেলা বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের (একাংশ) উদ্যোগে স্থানীয় প্লেজার পয়েন্ট রেস্টুরেন্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টারের হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যাড. ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম, অ্যাড. তৌফিক আলী খান কবির, অ্যাড. মোজাম্মেল হোসেন তপন, অ্যাড. শরীফ মো. সালাউদ্দিন, অ্যাড. মজিবুর রহমান দুলাল, অ্যাড. আরিফুর রহমান, অ্যাড. আল-আমিন সুজনসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না বলেন, গত ১৭ জুলাই রাতের আঁধারে মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী গ্রামের জনৈক লাবলু কাজী নামের এক ব্যক্তির একটি স্থাপনা কে বা কাহারা ভেঙে দিয়েছে মর্মে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। লাবলু কাজী ফ্যাসিষ্ট আমলে মাধবখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং তার উক্ত স্থাপনাটি সরকারি খাস জমিতে নির্মিত ছিল বলে জানা গেছে।
সারাদেশের ন্যায় পটুয়াখালীতেও সরকারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। তবে উক্ত স্থাপনাটি সরকার উচ্ছেদ করেছে নাকি কোনো দুর্বৃত্তরা ভেঙেছে, তা তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মাকসুদ আহমেদ বায়েজি পান্না বলেন, সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং এই স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বিন্দুমাত্র অবগত নন। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি সরকারি জমিতে যদি দলের কোনো নেতাকর্মীও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে তাঁর।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বাসভবন ‘সুরেইয়া ভবন’-এ কমপক্ষে ৭/৮ বার হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছিল। এমনকি বাথরুমের কমোড থেকে শুরু করে টেবিল ফ্যান ও স্ট্যান্ড ফ্যান পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সংসদ সদস্য চাইলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে পূর্বের ক্ষতিপূরণ আদায় বা মামলা করতে পারতেন, কিন্তু বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে প্রতিশোধের রাজনীতি করেন না, ঠিক তেমনি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরীও কোনো প্রকার প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।







