পটুয়াখালী পৌর শহরের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ টমটম, ট্রলি ও অনুমোদনহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধ, লতিফ স্কুল রোডে সংঘটিত মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, পটুয়াখালী জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে এ বিষয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিও গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও স্মারকলিপিতে বলা হয়, পটুয়াখালী পৌর শহরের অভ্যন্তরে অবৈধ যান চলাচলের কারণে তীব্র যানজট, জনদুর্ভোগ এবং প্রায়শই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এর সর্বশেষ শিকার হয়েছেন গত কাল বিকেলে পটুয়াখালীর লতিফ স্কুল রোডে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক নিরীহ নাগরিক। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘লতিফ স্কুল রোডে সংঘটিত দুর্ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দুর্ঘটনায় জড়িত টমটমের চালক, মালিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ। পটুয়াখালী পৌর শহরের অভ্যন্তরে দিনের বেলায় অবৈধ টমটম, ট্রলি ও অনুমোদনহীন যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ বা কঠোরভাবে বন্ধ করা। নিবন্ধন, রুট পারমিট, ফিটনেস বা বৈধ কাগজপত্রবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা। ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করে শহরের প্রধান সড়কসমূহে যানজট নিরসন এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভা, বিআরটিএ এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয়ে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা।’
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মোহা. মহসিন ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোহা. মনির মোল্লা, সদর উপজেলার সভাপতি আরিফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোহা. নাহিদ ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মোহা. ইয়ামিন হোসেন মামুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি প্রাণহানি কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। তাই এই ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার না হয়, সে লক্ষ্যে অবিলম্বে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবি। জনস্বার্থে নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও যানজটমুক্ত পটুয়াখালী গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।







