কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় সশস্ত্র জলদস্যুদের হামলায় আইউব মাঝি সহ ১২ জন জেলে আহত হয়েছেন। এ সময় দস্যুরা ট্রলারে থাকা লক্ষাধিক টাকার মাছ, জাল, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভোররাত ৫টার দিকে কুয়াকাটা থেকে আনুমানিক ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে গভীর বঙ্গোপসাগরের ‘খাম্বা বয়া বাতি’ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত জেলেদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গুরুতর আহত আইউব মাঝি ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচা এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ‘এফবি মিম’ নামের ট্রলারটি মাছ ধরে তীরে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ দুটি কালো পতাকা টানানো একটি হলুদ রঙের ট্রলারে প্রায় ২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল তাদের ট্রলারটি ঘিরে ফেলে। ট্রলারে থাকা ১৬ জন জেলের মধ্যে ১২ জনকে তারা বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ট্রলারে থাকা মাছ, জাল, ডিজেল, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মহিপুর মৎস্য সমিতির নেতা মো. ফজলু গাজী বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরে সমুদ্রে জলদস্যুদের উপস্থিতি না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে গভীর সমুদ্রে তাদের তৎপরতা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।” তিনি দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার এবং সমুদ্রে নৌ টহল জোরদার করার জোর দাবি জানান।
ঘটনার বিষয়ে কোস্টগার্ডের নিজামপুর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, “ বিষয়টি আমরা শুনেছি। আমরা অভিযানে আছি, আপনারা গোয়েন্দা শাখায় কথা বলুন।”
পায়রা বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নয়ন তারকুন জানান, “বিষয়টি আমরা মাত্রই জেনেছি এবং খোঁজখবর নিচ্ছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং আমাদের টহল আরও জোরদার করা হবে।”







