কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর-আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র বরফ সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ফলে চাহিদামুখী বরফ উৎপাদনে ধস নেমেছে। এতে করে দিগুণ দামে বরফ বিক্রি হচ্ছে এবং চড়া দামেও পর্যাপ্ত বরফ না পাওয়ায় ইলিশের ভরা মৌসুমেও সাগরে যেতে পারছেন না শত শত জেলের ট্রলার।
মৎস্য সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মৌসুমের এই সময়ে সাগরে গিয়ে ইলিশ শিকারের কথা থাকলেও বরফ সংকটের কারণে ট্রলারগুলো ঘাটে অলস পড়ে আছে। অথচ এর আগে যেখানে ১৫০ টাকার বরফের ক্যান এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়, তাও চাহিদামতো মিলছে না।
মহিপুর গাজী আইস প্লান্টের সত্ত্বাধিকারী মো. মজনু গাজী জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ১২-১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে বরফ কলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেনারেটর চালিয়ে বরফ উৎপাদন করতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় দামও বাড়াতে হয়েছে। বরফ সংকটের কারণে শত শত মাছ ধরার ট্রলার মহিপুর-আলীপুর ঘাটে বসে রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দাবি করছি।
হতাশা প্রকাশ করে জেলে মো. রহিম মিয়া বলেন, ‘‘আগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো ছিল, এখন প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না। বরফও তৈরি কম হয়, আর ১৫০ টাকার বরফ ৩শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমরা জেলেরা বাধ্য হয়ে ঘাটে বসে আছি, সাগরে যেতে পারছি না।’’
ট্রলার মালিক সুমন মিয়া বলেন, ‘‘একে তো সাগরে এখন মাছের দেখা মিলছে না, তার ওপর জীবন-জীবিকার তাগিদে সাগরে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও বরফের অভাবে আটকে আছি। জেলেরা ঘাটে অলস বসে খাচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, যেন এই মৎস্য বন্দরে সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।’’
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ সমস্যাটি সারা দেশব্যাপী। তারপরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করেছি, মৎস্য বন্দরে আপাতত ভিন্ন উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বরফের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি ভোক্তা অধিকারের মাধ্যমে তদারকি করা হবে।’’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, ‘‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বরফ তৈরিতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের সাথে আলোচনা করে মৎস্য বন্দরের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা, সে বিষয়ে কথা বলছি। যেহেতু বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর দিয়ে বরফ তৈরি করতে হচ্ছে, তাই দাম কিছুটা বেশি। তবে এই সুযোগে কেউ যেন অযৌক্তিক বা অতিরিক্ত দাম না নিতে পারে, সে বিষয়ে আমরা নজর রাখছি।’’







