পটুয়াখালীর বাউফলের নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেব এলাকায় হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলার শিকার বিএনপি সমর্থক মাঈনুদ্দিন (২৫) বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি সাইফুল শরীফ (৪০), ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি সোহাগ হাওলাদার (২৮) এবং জামায়াত সমর্থক আল-আমিন (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব এলাকার লালচরে মহিষের পাল জেলেদের মাছ ধরার চাই (মাছ ধরার ফাঁদ) নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে রায়সাহেব এলাকায় একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সালিশে মহিষ খামারিদের পক্ষে অবস্থান নেন জামায়াত নেতাকর্মীরা এবং জেলেদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিএনপি সমর্থক মাঈনুদ্দিন। সালিশ বৈঠক চলাকালে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মাঈনুদ্দিন, শাহিন, সোহেল রাড়ি, মামুন, ইউনুস, মমতাজ ও রানী বেগমসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







